কাজী শফিকুর রহমান
বিভাগীয় প্রধান ব্যবস্থাপনা বিভাগ; 
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, কুড়িগ্রাম

চারিদিকে যখন শুনি হতাশা বঞ্চনার কথা, যখন দেখি হতদরিদ্র মানুষ অর্থের অভাবে তাদের প্রিয় সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারছে না তখন মনের আকাশে একরাশ কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত হই। আরো  বিস্মিত হই  যখন শুনি সচেতনতার অভাবে নাবালক কন্যা সন্তানদের বিয়ের পিড়িতে বসতে হচ্ছে। যখন মাদকের ভয়াবহ থাবা এবং ফেসবুকের অপব্যবহারের কারণে ছেলেমেয়েরা ঘর থেকে বের হয় না তখন নিজের কাছে সমাজের কাছে ,রাষ্ট্রের কাছে তথা সৃষ্টিকর্তার কাছে দায়বদ্ধতা তৈরি হয়ে যায়।

কি করছি আমি? 
সমাজ সচেতনতায় আমার কি অবদান রয়েছে? 

আবার যখন দেখি একদল যুবক সে দায়বদ্ধতা মাথায় রেখে সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি কল্পে অবৈতনিক ভাবে স্বেচ্ছাশ্রম বিনিময়ে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে তখন সেটি দেখার পর মনের আকাশের  অন্ধকার কেটে যায়। মনে মনে সে আকাশ থেকে দীর্ঘ খরার পর একপশলা বৃষ্টির পড়ার মতো শব্দ শুনি। সেটি খুশির বন্যার আকার ধারণ করে যখন দেখি তাদের মধ্যে আমার প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীরা আছে। ক্লাস রুমে লেখাপড়ার পাশাপাশি সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধির যে কথা বলি তা কিছুটা হলেও সার্থকতা লাভ করছে।

একদা কুড়িগ্রাম পৌরসভার পাশে হলোখানা ইউনিয়নে সচেতনতার অভাবে সারাক্ষণ সে এলাকায় কাজিয়া ফ্যাসাদ লেগে থাকতো। এরই মধ্যে শিক্ষিত পরিবার খালেক মাষ্টারের সন্তান শামীম লেখাপড়া শেষ করে এলাকার আরও কিছু শিক্ষিত তরুণ জাহাঙ্গীর, ফরহাদ প্রমুখদের নিয়ে তৈরি করলো ’ ওরাকল স্টুডেন্টস লাইব্রেরি ‘। উদ্দেশ্যে ছিল এলাকার সন্তানরা যাতে বইপত্রের অভাবে লেখাপড়া ধ্বংস না হয়। শুধুমাত্র লাইব্রেরি কার্যক্রমের মধ্যে তারা  নিজেদের সীমিত করলেন না। হতদরিদ্র মানুষের সন্তান যারা একটু বড় হলে কর্মে নিয়োজিত হয় সেইসব মানুষদের সচেতনতা বৃদ্ধি করে তাদের শিশু সন্তানদের লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করালো। বাল্যবিবাহ রোধে প্রয়োজনীয় সচেতনতা বৃদ্ধি করলো। বিনা পয়সায় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের পড়ার বাহিরে কোচিং দিতে লাগলো। আজ সেই হলোখানা ইউনিয়নে প্রশাসন , শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য সহ বিভিন্ন সরকারি , বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ যেমন আছেন তেমনি আছেন দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজ সহ কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থীরা। আমার বিশ্বাস তারাও একদিন শামীমের মতো সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আলো ছড়াবে।

অদ্য ২৮ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে ওরাকল স্টুডেন্টস লাইব্রেরির আমন্ত্রণে তাদের নবম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে উপস্থিত হলাম। ভাল লাগলো সেখানে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে  ’ আশার আলো  পাঠশালা ‘ প্রতিষ্ঠা কুমার বিশ্বজিত বর্মণ ’ চর প্রথম আলো পাঠশালার ‘ অন্যতম উদ্যোক্তা শ্রদ্ধেয় বড় ভাই সাংবাদিক শফি খান , খেলা পাগল ’কুড়িগ্রাম ক্রীড়া উন্নয়ন সমিতি ’ উদ্যোক্তা শ্রদ্ধেয় বড়ভাই জালাল হোসেন লাইজু ঢাকাস্থ ’কুড়িগ্রাম সমিতি’ সাধারণ সম্পাদক বন্ধুবর সাইদুল আবেদিন ডলারকে দেখে। এতগুলো গুণীজনের মধ্যে আমাকে প্রধান অথিতি করায় যেমন বিস্মিত হয়েছি তেমনি আনন্দ লাভ করেছি।

ওরাকল স্টুডেন্টস লাইব্রেরি, আশার আলো  পাঠশালা, চর প্রথম আলো পাঠশালা, কুড়িগ্রাম ক্রীড়া উন্নয়ন সমিতি সহ এরূপ সামাজিক সংগঠন হাত ধরে একদিন কুড়িগ্রাম আলোকিত হবে। তেমনি আলোকিত হবে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। সে প্রত্যাশায়

আল্লাহ্‌ হাফিজ।