মিউয়ন-নিউট্রিনোর গতি আলোর চেয়ে
বেশি হলে আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব,
যার উপর দাঁড়িয়ে আছে বিখ্যাত E=mc 2 , খুব
সমস্যায় পড়ে যাবে। কিন্তু আসলেই কি
প্রমাণ হবে, আলোর গতির চেয়ে বেশি গতি
আছে? কিংবা প্রমাণ হলে কী হতে পারে?
যদি c (= 3×10 8 ms -1 ) আলোর বেগ হয়, তাহলে
কি আইনস্টাইনের সূত্র পরিবর্তন করতে
হবে? বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর
আবিষ্কার কি নতুন অক্ষরে লিখতে হবে?
খবরটা কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ? অনেকের
মাথায়ই এই প্রশ্ন আসবে। আপনি যদি
সিএনএন এর লাইভ সংবাদে দেখেন আমি আনু এখন চীন দেশে বক্তৃতা
দিচ্ছি, কিন্তু কিছুক্ষণ পর বাসায় এসে
দেখেন আমি আপনার বাসায় মজা করে চা
খাচ্ছি, তাহলে যেমন অবাক হবেন ঠিক
সে রকমই অবাক হয়েছেন বিজ্ঞানী মহল।
তাদের এতোদিনের ধ্যান ধারণায় আমূল
পরিবর্তন আসবে এই আবিষ্কারের ফলে।
আবিষ্কার সঠিক কিনা তা জানিনা,
তাতে কল্পনার ঘুড়ি উড়াতে সমস্যা
কোথায়?
আলো হচ্ছে ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ওয়েভ
যাকে বাংলায় বলা হয় তাড়িৎ-চৌম্বক
তরঙ্গ। আমরা জানি শব্দ তরঙ্গ কানে
আসলেই শুনতে পারি। কিন্তু এই শব্দ কানে
পৌঁছাতে হলে মাধ্যম চাই। তবে মজার
বিষয় তাড়িৎ-চৌম্বক তরঙ্গ চলতে কোন
মাধ্যম লাগেনা, তাইতো সে সূর্য থেকে
আট মিনিট পনেরো সেকেন্ডের মধ্যে
আমাদের কাছে এসে পৌঁছতে পারে।
আলোকে কেউ কেউ পিওর এনার্জিও মনে
করেন। আলোর গতি সব সময় সমান। মনে করুন
আপনি চান্দের গাড়ির ছাদে বসে কোথাও
যাচ্ছেন, সেই সময় মাটিতে থাকা আপনার
বন্ধু তার খেলনা বিমানটা আকাশে
উড়ালো। আপনি যে দিকে যাচ্ছেন সে
দিকেই। তাহলে চলনসই আপনি ঐ বিমানের
গতি, আপনার বন্ধু আপনার পরিমাপ করা
গতির চেয়ে বেশি দেখবেন। আবার আপনি
ঐ বিমানটির দিকে কিছু ছুঁড়ে মারলে, যে
গতি দেখবেন, আপনার বন্ধু তার চেয়ে
বেশি গতি দেখবে। কিন্তু ব্যাপারগুলো
আলো নিয়ে হলে আপনারা দুই বন্ধু সমান
গতিবেগ রেকর্ড করবেন। আলোর গতি প্রায়
প্রতি সেকেন্ডে ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ মিটার।
আলোর গতির চেয়ে বেশি গতি হলে
সমস্যাঃ
আমরা জানি কাল দীর্ঘায়নের সূত্র হচ্ছে:
এখানে v হচ্ছে গতিবেগ। c হচ্ছে আলোর
গতিবেগ। t হচ্ছে সময়। ধরুন, v = 0.99c মানে
আলোর গতির খুব কাছে। তাহলে সমীকরণে
বসালে আমরা পাই t = 7t 0 , কোন কিছু ০.৯৯
আলোর গতির সমান গতিতে চললে, তার
কাছে ১ বছর, আমাদের কাছে ৭ বছরের
সমান মনে হবে।
যদি v = 0.999999c হয়, মানে আলোর গতির
প্রায় সমান, তাহলে একই ভাবে তার কাছে
১ বছর, আমাদের কাছে ৭০০ বছরের সমান
মনে হবে। যদি v = c হয়, মানে আলোর গতির
সমান, তাহলে তার কাছে ১ বছর, আমাদের
কাছে অসীম বছরের সমান মনে হবে। যদি, v
= 1.0025c আলোর গতির চেয়ে বেশি হলে,
তাহলে আপনাকে -0.001 এর root করতে হবে
যা অসম্ভব। তাই কিছু গাণিতিক কাজ করে
পেলাম t*t = t0 *t 0 * (-400)। তাহলে কি সময়
উলটো দিকে যেতে থাকবে?
এবার দৈর্ঘ্য সংকোচন এর নীতির উপর
আলোর চেয়ে বেশি গতি প্রয়োগ করে পাই:
এখানে গতি 0.99c হলে দৈর্ঘ্য সংকোচন
হবে ৭ গুন, গতি 0.999999c হলে হবে ৭০০
গুন, যদি v = c হয়, তাহলে দৈর্ঘ্য সংকোচন
হবে অসীম। কিংবা অন্য কথায় v = c হলে
পদার্থের দৈর্ঘ্য শূণ্য হয়ে যায়। যদি v =
1.0025c হয়, তাহলে দৈর্ঘ্য কি ঋণাত্মক
হবে?
এবার ভরের উপর আলোর চেয়ে বেশি গতি
প্রয়োগ করলে দেখা যায়:
v = 0.99c হলে ভর হবে ৭ গুন, v = 0.999c হলে
ভর হবে ২২ গুন, v = 0.999999c হলে ভর হবে ৭০০
গুন, v = c, মানে আলোর গতির সমান হলে ভর
হয়ে যাবে অসীম। যদি v = 1.0025c, হয়,
মানে আলোর গতির চেয়ে বেশি, তাহলে
কি ভর ঋণাত্মক হয়ে যাবে?
এখন, E = mc 2 এ গতির কারণে ভর ঋণাত্মক
হয়েছে ধরে নিই। এনার্জি কি ঋণাত্মকে
পরিণত হচ্ছে? তাহলে কি নেগেটিভ
এনার্জি মেনে নিতে হবে?
নাকি আলোর গতির চেয়ে বেশি গতির
পরিসংখ্যানটাই ভুল? নাকি নতুন কোন
তত্ত্ব আসছে এই পৃথিবীতে? নাকি
নেগেটিভ এনার্জি বা বিপরীত শক্তি,
ঋণাত্মক ভর বা বিপরীত ভর এর ভিত্তির
নতুন সূচনা হচ্ছে? এবার আমাদের নতুন
ইকুয়েশন বানাতে হবে, সেখানে এন্টি
পার্টিক্যাল নিয়ে আসতে হবে।
ইলেক্ট্রনের বিপরীতে যদি প্রোটন থাকে,
তাহলে তাদের থাকতে দোষ কোথায়?
আপনারা যারা ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ
গহ্বরকে চিনেন, তারা জানেন কৃষ্ণ গহ্বরের
মাধ্যাকর্ষণ এত বেশি যে আলোও সেখান
থেকে মুক্ত হতে পারেনা। আমার ধারণা
কৃষ্ণ গহ্বরে উপরের কাহিনীগুলো ঘটেছে।
হয়তো বা আমার হিসাবে বড় কোন ভুল
আছে।
★★★★★★★★★

আমি আনু