নাস্তিক
মুক্তমনাদের
ধর্মকে
বাদ
দেবার
বর্তমানে
সবচেয়ে
বড়
হাতিয়ার
হলো
বিবর্তনবাদ
এবং
কোয়ান্টাম
ফ্লাকচুয়েশন।
বিবর্তনবাদের
অসারতা
নিয়ে
অনেক লেখালেখি হয়েছে, তবে
কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন নিয়ে
লেখালেখি আমার জানা মতে কমই
হয়েছে। মুক্তমনা ব্লগারদের দেখবেন এই
বিষয়গুলো উপস্থাপন করে। যদিও এই তত্ত্ব
নিয়ে তারা একটু বেশি বাড়াবাড়িই করে,
তবে কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের প্রমাণ
বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন। এ বিষয় নিয়ে
আমাদের ভাবনা চিন্তার ব্যাপার আছে।
একটা প্রশ্ন মনের মাঝে আসেই যে বিগ
ব্যাং এর আগে কি ছিল? অবশ্যই এখানে
কথাটা হচ্ছে সময় নিয়ে। বিগ ব্যাং হবার
পূর্বের “সময়” টাতে কি ছিল? “সময়” কি?
সময় জিনিসটাকে আমরা যেভাবে নিই সময়
সেরকম না। সময় আমাদের বস্তুদের মতই
আপেক্ষিক। বস্তুকে যেমন ছোট করা যায় বা
বড় করা যায় তেমনই সময় কেও এমন করা
যায়। সময় পরম নয়। “সময়” নামক জিনিসটাও
একটা বিন্দু থেকে তৈরি হতে হয়েছে। আর
সে বিন্দুটা হল বিগ ব্যাং। আমাদের
ধারণার দৈর্ঘ্য প্রস্থ যেমন একটা মাত্রা
তেমনই সময়ও একটা মাত্রা। তাই সময়টাই
যে বিন্দু থেকে শুরু হয়েছে সেই বিন্দুর
আগে বা সময় তৈরির সূচনার বিন্দুর আগে
কি ই বা থাকতে পারে? এমন প্রশ্নের
উত্তরই বা কি হতে পারে? এই প্রশ্নের কি
উত্তর সম্ভব? এ প্রশ্ন থেকে “কোয়ান্টাম
ফ্লাকচুয়েশনের” ব্যাপারটা আসে।
কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন অনুসারে কোনো
কিছু সৃষ্টি হতে পারে শূন্য থেকেই। আবার
ঝামেলেও আছে, এখানে ম্যাটার, এন্টি
ম্যাটারএর ব্যাপারটাও চলে আসে। তো
ফলাফল গিয়ে দাঁড়াল কোনো কিছু শূন্য
থেকেও সৃষ্টি হতে পারে। শূন্য বলতে
এখানে “শূন্যস্থান বা ভ্যাকুয়াম” নয়। শূন্য
বলতে বোঝানো হচ্ছে “জিরো বা
সিরিয়াস শূন্য” এই তত্ত্ব সত্যি হয়ে
থাকলে প্রতিনিয়তই শূন্য থেকে সৃষ্টি হচ্ছে
মহাবিশ্ব!
বিস্তারিত বলি…. আইনস্টাইন তার
মহাবিশ্বকে প্রথমে “স্থিতিশীল” একটা
রূপ দেয়ার জন্য একটা ধ্রুবক যোগ
করেছিলেন, তারপর সেটাকে “জীবনের
সবচেয়ে বড় ভুল” বলে বাদও দিয়েছিলেন।
কিন্তু ছয় দশক পরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা
কোয়ান্টাম বলবিদ্যা এবং গুপ্ত শক্তি
নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখলেন,
আইনস্টাইন আসলে ভুল ছিলেন না।
আইনস্টাইনের মতো তাদেরও ক্ষেত্র
সমীকরণে তাদের একটা ধ্রুবক যোগ করতেই
হচ্ছে, আর সেই ধ্রুবকটা বসছে সমীকরণের
ডান দিকে। তার মানে এ ক্ষেত্র সমীকরণ
সঠিক হলে “শূন্যতার” মধ্যেই কিন্তু এক
ধরণের শক্তি লুকিয়ে আছে; আর সেটাই
তৈরি করে ভ্যাকুয়াম ফ্লাকচুয়েশনের
মাধ্যমে পদার্থ তৈরির প্রাথমিক ক্ষেত্র।
ব্যাপারটা আরেকটু বিস্তৃত করা যাক।
রহস্যময় এই শূন্য শক্তি কিংবা ভ্যাকুয়াম
ফ্লাকচুয়েশনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তিটি
গড়ে উঠেছে হাইজেনবার্গের বিখ্যাত
অনিশ্চয়তা তত্ত্বের কাঁধে ভর করে।
হাইজেনবার্গ গাণিতিকভাবে প্রমাণ করে
দেখান যে, কোন বস্তুর অবস্থান এবং
ভরবেগ যুগপৎ একসাথে নিশ্চিত ভাবে
নির্ণয় করা সম্ভব নয়। বস্তুর অবস্থান ঠিক
ঠাক মত মাপতে গেলে দেখা
যাবে,ভরবেগের তথ্য যাচ্ছে
হারিয়ে,আবার ভরবেগ চুলচেরা ভাবে
পরিমাপ করতে গেলে বস্তুর অবস্থান
অজানাই থেকে যাবে। কাজেই
হাইজেনবার্গের এই সূত্র সত্যি হয়ে
থাকলে, এমনকি “পরম শূন্যে” ও একটি কণার
“ফ্লাকচুয়েশন” বজায় থাকার কথা, কারণ
কণাটি নিশ্চল হয়ে যাওয়ার অর্থই হবে এর
অবস্থান এবং ভরবেগ সম্বন্ধে আমাদেরকে
নিশ্চিত তথ্য জানিয়ে দেওয়া,যা
প্রকারান্তরে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা
তত্ত্বের লঙ্ঘন। বিজ্ঞানীরা কিন্তু
ব্যবহারিক ভাবেই এর প্রমাণ পেয়েছেন।
একটি প্রমাণ হচ্ছে “ল্যাম্ব শিফট”, যা
আহিত পরমাণুর মধ্যস্থিত দুটো স্তরে
শক্তির তারতম্য প্রকাশ করে। আরেকটি
প্রমাণ হল টপ কোয়ার্কের ভরের পরিমাপ।
তবে কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের সবচেয়ে
জোরদার প্রমাণ পাওয়া গেছে বিখ্যাত
“কাসিমিরের প্রভাব” থেকে। ১৯৪৮ সালে
ডাচ পদার্থবিদ হেনরিক কাসিমির
বলেছিলেন,কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন সত্যি
হয়ে থাকলে দুটো ধাতব পাত খুব
কাছাকাছি আনা হলে দেখা যাবে তারা
একে অন্যকে ধীরে ধীরে আকর্ষণ করেছে।
এর কারণ হচ্ছে, ধাতব পাত গুলোর মধ্যকার
সঙ্কীর্ণ স্থানটিতে ভ্যাকুয়াম
ফ্লাকচুয়েশনের ফলে খুব উচ্চ কম্পাঙ্কের
তড়িচ্চুম্বকীয় ‘মোড’ এর উদ্ভব ঘটে যা ধাতব
পাতগুলোকে একে অপরের দিকে আকর্ষণে
বাধ্য করে [১]।
চিত্র: বিজ্ঞানীরা
দেখেছেন, যে শূন্য-দেশকে আপাত:
দৃষ্টিতে শান্ত, সমাহিত মনে হচ্ছে, তার
সূক্ষ্মস্তরে সবসময়ই নানান প্রক্রিয়া ঘটে
চলেছে। এর মধ্যে নিহিত শক্তি থেকে
পদার্থ-কণা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৈরি হচ্ছে,
আবার তারা নিজেকে সেই শক্তিতে
বিলীন করে দিচ্ছে। এ প্রক্রিয়াটির মূলে
রয়েছে ‘রহস্যময়’ কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন
বা তথাকথিত ‘জিরো পয়েন্ট এনার্জি’। এ
প্রক্রিয়ায় পদার্থ ও প্রতিপদার্থ যুগলের
আকারে যে অসদ কণিকা (virtual particle)
প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে তা
হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা তত্ত্ব অনুযায়ী
প্ল্যাঙ্ক ধ্রুবকের পরিসীমার মধ্যে বিলীন
হয়ে যায় (ছবির উৎস: সায়েন্টিফিক
আমেরিকান, ডিসেম্বর ১১৯৭ সংখ্যা) – [১]
এ ব্যাপারটিই পরবর্তীতে মার্কস
স্প্যার্ণে, স্টিভ লেমোরাক্স প্রমুখ
বিজ্ঞানীদের পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়।
আমরা স্কুলে পড়েছিলাম ‘শক্তির
নিত্যতার সূত্র’ এবং ‘ভরের নিত্যতার
সূত্র’। মহাবিশ্বে মোট শক্তির পরিমাণ
সমান, মোট ভর ও তাই। কিন্তু পরে আমরা
জানলাম ব্যাপারটা সত্যি না পুরপুরি,
আসলে ভর ও শক্তি নিজেদের মাঝে
পরিবর্তিত হতে পারে। আইনস্টাইন এর E =
mc2 প্রমাণ করে ভর ও শক্তি একই জিনিস।
একটা নির্দিষ্ট স্থানে ভর ও শক্তির
পরিমাণ একসাথে নির্দিষ্ট, আলাদা
আলাদা ভাবে নয় । একে আমরা বলি ‘ভর ও
শক্তির নিত্যতা’। কিন্তু এই ধারনায় চিড়
ধরাল সেই গোলমেলে হতচ্ছাড়া কণিকা
জগত। আবির্ভাব হল কোয়ান্টাম
ফ্লাকচুয়েশন এর। একটি নির্দিষ্ট স্থানে
অনবরত বিভিন্ন ধরনের কণিকা (অর্থাৎ ভর
তথা শক্তি) তৈরি হয় এবং অল্প সময় পর
আবার তা মিলিয়ে যায়- এটাই কোয়ান্টাম
ফ্লাকচুয়েশন। এরপরে প্রশ্ন আসে- তাহলে
ভর-শক্তির কোন নিত্যতা নেই? না। ভর
শক্তির নিত্যতার এই সূত্র ও ভেঙ্গে পড়ে
কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন এর কারনে। কিন্তু
খুবই কম সময়ের জন্য। কিন্তু একটা জিনিস
বলে রাখি- কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনে
শক্তি বা ভর এর এই তারতম্য অত্যন্ত কম
সময়ের জন্য হলেও এর প্রভাব কিন্তু
সুদূরপ্রসারী হতে পারে। যেমন ফ্লাকচুয়েশন
এর কারনে ইলেকট্রন এর চার্জ কম বেশি হয়
[১]।
পদার্থবিজ্ঞানী লিওনার্ড ম্লোডিনোর
সাথে লেখা সাম্প্রতিক ‘গ্র্যান্ড
ডিজাইন’ বইয়ে স্টিফেন হকিং উল্লেখ
করেছেন –
‘মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সূত্রের মতো
পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন সূত্র কার্যকর
রয়েছে, তাই একদম শূন্যতা থেকেও
মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্ভব এবং সেটি
অবশ্যম্ভাবী। ‘স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎপত্তি’
হওয়ার কারণেই ‘দেয়ার ইজ সামথিং,
রাদার দ্যান নাথিং’, সে কারণেই
মহাবিশ্বের অস্তিত্ব রয়েছে, অস্তিত্ব
রয়েছে আমাদের। মহাবিশ্ব উৎপত্তির সময়
বাতি জ্বালানোর জন্য ঈশ্বরের কোন
প্রয়োজন নেই।’ হকিং এর সাম্প্রতিক বইটি
বেরুনোর পর তিনি এ নিয়ে একটি ব্লগও
লিখেছিলেন – ‘Can a Universe Create Itself
Out of Nothing?’ শিরোনামে সেখানেও
ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করেছেন আধুনিক
পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে। সেখানে
তিনি উল্লেখ করেছেন,"আপনি হয়তো
ভাবতে পারেন, শূন্য থেকে মহাবিশ্বের
উদ্ভবের ধারনাটা পদার্থ এবং শক্তির
নিত্যতার সূত্রের লঙ্ঘন। কী ভাবে আপনি
শূন্য থেকে রাতারাতি একটা মহাবিশ্ব
তৈরি করে ফেলতে পারেন? ওয়েল …যদি
আপনি মহাবিশ্বের সমস্ত ভর হিসেব করেন,
দেখবেন এটা ধনাত্মক। আর যদি আপনি
মহাবিশ্বের মহাকর্ষ ক্ষেত্রের শক্তির
হিসেব নেন, দেখবেন সেটা ঋণাত্মক। যখন
আপনি এ দুটোকে যোগ করবেন, কি পাবেন?
শূন্য। তার মানে মহাবিশ্ব তৈরি করতে
কোন শক্তি আসলে লাগছে না। মহাবিশ্ব
ফ্রি পাচ্ছেন আপনি – যেন ফ্রি লাঞ্চ
হিসেবে। আপনি হয়তো মাথা নেড়ে
ভাবতে পারেন– নাহ, এটা ঠিক নয়। এই যে
চারিদিকের ধনাত্মক চার্জ আর ঋণাত্মক
চার্জ দেখি – কই তারা তো একে অপরকে
নিষ্ক্রিয় করে দিচ্ছে না। তাহলে কীভাবে
শূন্য থেকে মহাবিশ্ব পাওয়া যাবে?
ওয়েল,আপনি যদি একই ভাবে মহাবিশ্বের
যাবতীয় ধনাত্মক চার্জের পরিমাণ আর
ঋণাত্মক চার্জের পরিমাণ ধরে যোগ করেন
দেখবেন যোগফল পাওয়া যাচ্ছে শূন্য!
মহাবিশ্বের আসলে কোন নেট চার্জ নেই।
আচ্ছা স্পিন বা ঘূর্ণনের ব্যাপারেই বা
ঘটনা কি? গ্যালাক্সির ঘূর্ণন আছে,তাই
না? এবং তারা ঘুরে বিভিন্ন
ডাইরেকশনে। আপনি যদি গ্যালাক্সি
গুলোর সমস্ত ঘূর্ণন যোগ করেন, কি পাবেন?
শূন্য। সুতরাং –মহাবিশ্বের রয়েছে ‘শূন্য
স্পিন’, ‘শূন্য চার্জ’, এবং ‘শূন্য এনার্জি
কনটেন্ট’। অন্য কথায় পুরো মহাবিশ্বই শূন্য
থেকে পাওয়া [১]।
অর্থ্যাৎ এখানে মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো
শূন্য হতে মহাবিশ্বের সৃষ্টি। আপনা আপনি
সৃষ্টি প্রক্রিয়া। তবে বিজ্ঞানী এবং
নাস্তিকরা এর উপর ভিত্তি করে কীভাবে
বলেন যে, কোনো ঈশ্বর নেই? এখানে
ঈশ্বর তথা সৃষ্টিকর্তা কীভাবে বাদ যায়?
তবে স্টিফেন হকিং কিন্তু ঈশ্বরকে বাদ
দেন নি। তিনি বলেছেন, "ঈশ্বরের অস্তিত্ব
নেই তা আমরা প্রমাণ করতে পারবো না,
তবে মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে ঈশ্বরের প্রয়োজন
নেই। "It argues that invoking God is not
necessary to explain the origins of the universe,
and that the Big Bang is a consequence of the
laws of physics alone. In response to criticism,
Hawking has said; "One can't prove that God
doesn't exist, but science makes God
unnecessary."
en.zero.wikipedia.org/wiki/The_Grand_Design_
(book)
ইনশাআল্লাহ আমি চেষ্টা করছি কুরআন
এবং হাদিস থেকে এ সম্পর্কে কিছু তথ্য
দেওয়ার। মূল বিষয় হলো, আমরা জানি বিগ
ব্যাং এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি। তবে
প্রশ্ন হলো বিগ ব্যাং এর পূর্বে কি ছিল?
কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের মাধ্যমে সৃষ্টি
প্রক্রিয়া আদি থেকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
অর্থ্যাৎ শূন্য হতে মহাবিশ্বের
সৃষ্টিপ্রক্রিয়া শুরু, তারপর মহাবিস্ফোরণ
অর্থ্যাৎ বিগ ব্যাং, তারপর মহাবিশ্বের
সম্প্রসারণ।
শূন্য থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টিঃ
কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের মূল বিষয় হলো
শূন্য হতে মহাবিশ্ব সৃষ্টি। আসুন দেখি
কুরআন কি বলেঃ
(০২ : ১১৭) যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে
অনস্তিত্ব হতে অস্তিত্বে আনায়ন করেন
এবং যখন তিনি কিছু করবার জন্য সিদ্ধান্ত
গ্রহণ করেন শুধু বলেন হও, আর তা হয়ে যায়।
Creator of the heavens and the earth from
nothingness, He has only to say when He wills a
thing, “Be,” and it is. (2- The Cow,117)
In this Ayat careful emphasis should be laid on
the words ' ﺑَﺪِﻳﻊُ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭْﺽِ ' meaning
'Originator of the heavens and the earth' . the
Arabic word ﺑَﺪِﻳﻊُ is used to describe creation from
nothing and the Arabic word ﺧﻠﻖ is used to
describe creation from something already
present. Allama Ibn e Kathir says regarding the
word ﺑَﺪِﻳﻊُ :"literally ﺑﺪﻋﺖ means to create
something new, make something new" . He
explains ﺍﺑﺪﺍﻉ as creation without any previous
example and without the use of any other matter
or substance. (See Tafsir Ibn e Kathir 1/241)
(আল বারী) সৃজনকর্তা, তিনি যা নির্ধারণ
করেছেন এবং যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
তাকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে রূপ দান
করেছেন। হযরত আলী রা. আরও বলেন, “ ﻛﺎﻥ ـ
ﺍﻟﻠﻪ ـ ﻭﻻ ﻣﻜﺎﻥ، ﻭﻫﻮ ﺍﻵﻥ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ ـ ﻋﻠﻴﻪ ـ ﻛﺎﻥ ” অর্থ: যখন
কোন স্থান ছিলো না, তখনও আল্লাহ
তায়ালা ছিলেন। তিনি এখনও স্থান থেকে
পবিত্র অবস্থায় আছেন। [আল-ফারকু
বাইনাল ফিরাক, আবু মনসুর বাগদাদী,
পৃ.৩৩৩]। ইমাম আবু হানিফা রহ. তাঁর আল-
ফিকহুল আবসাতে বলেছেন, “: ﻗﻠﺖُ : ﺃﺭﺃﻳﺖَ ﻟﻮ ﻗﻴﻞ
ﺃﻳﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ؟ ﻓﻘﺎﻝ ـ ﺃﻱ ﺃﺑﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔ ـ : ﻳﻘﺎﻝ ﻟﻪ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﻻ
ﻣﻜﺎﻥ ﻗﺒﻞ ﺃﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﺍﻟﺨﻠﻖ، ﻭﻛﺎﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺃﻳﻦ ﻭﻻ ﺧَﻠْﻖ ﻭﻻ
ﺷﻰﺀ، ﻭﻫﻮ ﺧﺎﻟﻖ ﻛﻞ ﺷﻰﺀ ” অর্থ: যদি আপনাকে
প্রশ্ন করা হয় আল্লাহ তায়ালা কোথায়?
ইমাম আবু হানিফা রহ. এর উত্তরে
বলেন,তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, সৃষ্টির
অস্তিত্বের পূর্বে, যখন কোন স্থানই ছিলো
না, তখনও আল্লাহ তায়ালা ছিলেন।
আল্লাহ তায়লা তখনও ছিলেন যখন কোন
সৃষ্টি ছিলো না,এমনকি ‘কোথায়’ বলার
মতো স্থানও ছিলো না।সৃষ্টির একটি
পরমাণুও যখন ছিলো না তখনও আল্লাহ
তায়ালা ছিলেন।তিনিই সব কিছুর
সৃষ্টা” [ আল-ফিকহুল
আবসাত,পৃ.২০,আল্লামা যাহেদ আল-
কাউসারীর তাহকীক]
–এখানে বলা হচ্ছে, "অনস্তিত্ব হতে
অস্তিত্বে আনায়ন করেন"।অর্থ্যাৎ পূর্বে
সবকিছু ছিল অস্তিত্বহীন।টোটাল জিরো।
যা শূন্য হতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে
সমর্থন করছে।
–আর সৃষ্টিকর্তার হস্তক্ষেপের যে বিষয়টি
তা হলোঃ মহান আল্লহ সৃষ্টির প্রক্রিয়া
পরিকল্পনা করেছে (৫৯:২৪) এবং নির্দেশ
দিলেন হওয়ার আর তা আপনা আপনা
পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়ে যায়। কারণ মহান
আল্লহ কেবল চারটি সৃষ্টি করার কথা
বলেছেন।বাদ বাকি কেবল নির্দেশ
করেছেন আর তা পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়ে
গেছে। ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন,আল্লাহ
তা‘আলা চারটি বস্তু তাঁর নিজ হাতে সৃষ্টি
করেছেন, (১) আরশ (২) কলম (৩) আদম
(৪)জান্নাতু ‘আদন। অতঃপর যাবতীয়
সৃষ্টিকে লক্ষ্য করে বলেন, হয়ে যাও, ফলে
তা হয়ে গেছে।(হাকেম হা/৩২৪৪,
মুখতাছারুল ‘উলূ ১/৭৫, আলবানী সনদ ছহীহ)।
এখানে উক্ত বস্তুর অস্তিত্ব আমাদের
জানা নেই কিন্তু বাদ বাকি যা কিছু আছে
সকল কিছূর ক্ষেত্রে কেবল আল্লহর নির্দেশই
যথেষ্ট কারণ কুরআনে আছেঃ
"অতঃপর তিনি (আল্লাহ) আকাশের দিকে
মনোনিবেশ করেন, যা ছিল
ধূম্রপুঞ্জবিশেষ।’ অনন্তর তিনি তাকে ও
পৃথিবীকে বললেন, ‘তোমরা উভয়ে আস
ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়।’ তারা বলল, ‘আমরা
আসলাম অনুগত হয়ে।" এখানে কিন্তু কেবল
আল্লহর নির্দেশের কথাই বোঝানো হচ্ছে।
(সূরা আর রুমঃ২৬.)
আকাশসমূহ ও পৃথিবীর মধ্যে যা কিছুই আছে
সবাই তাঁর হুকুমের তাবেদার। অর্থ্যাৎ মহান
আল্লহ নির্দেশ প্রদানকারী এবং তিনি
এগুলোর পরিকল্পনাকারী। এখানে মানবীয়
চিন্তা করলে তো হবে না যে, আল্লহকে সব
কিছু তার নিজ হাতেই সৃষ্টি করতে হবে?
এটা মহান আল্লহর ইচ্ছাধীন। দেখা গেল
যে, কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনও কুরআন ও
হাদিস বিরোধী নয়। এবং আপনা আপনি
সৃষ্টি স্রষ্টাকে বাদ দেয় না বরং তার
সুপরিকল্পনার প্রমাণ দেয়।
বিগ ব্যাং তত্ত্বঃ
Al-Anbiyaa : 30
ﺃَﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭٓﺍ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻛَﺎﻧَﺘَﺎ ﺭَﺗْﻘًﺎ ﻓَﻔَﺘَﻘْﻨٰﻬُﻤَﺎ ۖ ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ
ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﺎٓﺀِ ﻛُﻞَّ ﺷَﻰْﺀٍ ﺣَﻰٍّ ۖ ﺃَﻓَﻠَﺎ ﻳُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ
Have those who disbelieved not considered that
the heavens and the earth were a joined entity,
and We separated them and made from water
every living thing? Then will they not believe?
(২১ : ৩০) যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে
দেখে না যে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী
মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে; অতঃপর আমি
উভয়কে পৃথক করে দিলাম।
Al-Anbiyaa : 104
ﻳَﻮْﻡَ ﻧَﻄْﻮِﻯ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎٓﺀَ ﻛَﻄَﻰِّ ﺍﻟﺴِّﺠِﻞِّ ﻟِﻠْﻜُﺘُﺐِ ۚ ﻛَﻤَﺎ ﺑَﺪَﺃْﻧَﺎٓ ﺃَﻭَّﻝَ ﺧَﻠْﻖٍ ﻧُّﻌِﻴﺪُﻩُۥ ۚ
ﻭَﻋْﺪًﺍ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺎٓ ۚ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻓٰﻌِﻠِﻴﻦَ
The Day when We will fold the heaven like the
folding of a [written] sheet for the records. As
We began the first creation, We will repeat it.
[That is] a promise binding upon Us. Indeed, We
will do it.
( ২১:১০৪) আকাশকে আমি এমনভাবে গুটিয়ে
ফেলবো যেমন বাণ্ডিলের মধ্যে গুটিয়ে
রাখা হয় লিখিত কাগজ, যেভাবে আমি
প্রথমে সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম ঠিক
তেমনিভাবে আবার তার পুনরাবৃত্তি
করবো, এ একটি প্রতিশ্রুতি, যা আমার
দায়িত্বের অন্তর্ভুক্তএবং এ কাজ আমাকে
অবশ্যই করতে হবে।
নাসার ওয়েবসাইটে আছে, "The simplest
version of the inflationary theory, an extension
of the big bang theory, predicts that the density
of the universe is very close to the critical
density and the geometry of the the universe is
flat, like a sheet of paper." "WMAP has confirmed
this result with very high accuracy and precision.
We know (as of 2013) that the universe is flat
with only a 0.04% margin of error." http://
map.gsfc.nasa.gov/universe/uni_shape.html
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণঃ
আকাশ মণ্ডলী আমি উহাকে সৃষ্টি
করিয়াছি ক্ষমতার বলে। নিশ্চয়ই আমি
উহাকে সম্প্রসারিত করিতেছি।’ (কোরআন
সুরা যারিয়াত : ৪৭)
আপনি উপরের তথ্যগুলো কিছুদিন আগে
জানলেন অথচ কুরআন বলছে ১৪০০ বছর আগে।
তাহলে বলুন এখনো কি বলবেন স্রষ্টা নেই?
সারকথাঃ
বিজ্ঞানীদের দাবি মহাবিশ্ব শূন্য থেকে
আপনা আপনি সৃষ্টি হতে পারে, ঈশ্বরের
প্রয়োজন নেই। কিন্তু এর মানে এ নয় যে,
তারা ঈশ্বরকে পুরোপুরি বাদ দিয়েছে।
তারা বলতে চাচ্ছে যে, যদি ঈশ্বর নাও
থাকত (নাউজুবিল্লাহ) তবুও শূন্য থেকে
মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্ভব। মহাবিশ্ব যে
আপনা আপনি ধাপে ধাপে এভাবে সৃষ্টি
হতে থাকবে, এটা মহান আল্লহই পরিকল্পনা
করে রেখেছেন। তিনি নির্দেশ দিলেন
এবং যেভাবে তিনি পরিকল্পনা
করেছিলেন সেভাবেই পুরো মহাবিশ্ব
ধাপে সৃষ্টি হতে লাগল। ম্যাজিশিয়ানের
একটা গল্প হয়তো শুনে থাকবেন যে, যে যখন
মন্ত্র পড়ে তার ঝাড়ুকে নির্দেশ দিত,তখন
ঝাড়ু নিজে নিজে ঘর পরিষ্কার করা শুরু
করে দিত আর থামতে বললে থেমে যেত।
মহান আল্লাহ হয়তো এটাই পরিকল্পনা
করেছিলেন যে, শূন্যতা থেকে মহাবিশ্ব
আপনা আপনি সৃষ্টি হতে থাকবে। মহান
আল্লাহ নির্দেশ দিলেন আর প্রক্রিয়াটি
শুরু হয়ে গেল। বিজ্ঞানীরা প্রক্রিয়াটিকে
স্বতঃস্ফূর্ত বলতে পারে কিন্তু এ
প্রক্রিয়ার যে পরিকল্পনাকারী নেই তা
কিন্তু তারা কোনো দিন প্রমাণ করতে
পারবে না। তেজস্ক্রিয় পর্দার্থের বিকিরণ
যেমন স্বতঃস্ফূর্ত কিন্তু তার মানে এ নয়
যে, তেজস্ক্রিয় পর্দার্থের বিকিরণের এ
প্রক্রিয়া কোনো পরিকল্পনা কারী করেন
নি? আশা করি এবার সবাই বুঝেছেন।
স্টিফেন হকিং ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না
তাই তিনি বলেছেন যে, সৃষ্টিকর্তার
প্রয়োজন নেই। এখানে সৃষ্টিকর্তার
নির্দেশ ও পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।
আপনি বলুন আল্লহ নির্দেশ দিয়েছেন এর
কি কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমান দেওয়া
যায়? যায় না। আর এ কারণে তারা বলছে
স্রষ্টার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা ঈশ্বরে
বিশ্বাস করি তাই বলছি প্রক্রিয়া
স্বতঃস্ফূর্ত হলেও এ প্রক্রিয়ার
পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা মহান
আল্লহ।
আর কুরআন তো শূন্য হতে সৃষ্ট প্রক্রিয়া
মেনেই নিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলতে
চাচ্ছেন যে, মহাবিশ্ব যদি শূন্য থেকেই
সৃষ্টি হয় তাহলে ঈশ্বরের কি প্রয়োজন।
কিন্তু তারা কুরআনের এ আয়াত জানে না,
সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি প্রক্রিয়ার নির্দেশ
প্রদান করে ও পরিকল্পনা করেও তো ঈশ্বর
হতে পারেন তাই না? বিজ্ঞানীরা হয়তো
ভাবতেই পারে নি যে, কুরআনে সৃষ্টির এমন
জটিল প্রক্রিয়ার কথা আগে থেকেই বলা
হয়েছে, তারা যদি জানে তাহলে হয়তো
সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন নেই এ কথা বাদ
দিবে। শূন্য থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টি
প্রক্রিয়া আর ঈশ্বরের নির্দেশে শূন্য হতে
মহাবিশ্ব সৃষ্টির মধ্যে কোনো বৈজ্ঞানিক
বৈপরীত্য দেখছি না।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও মহাজ্ঞানী।
———————————————
আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন নাস্তিকদের সকল যুক্তির মোকাবেলা করতে পারি এবং দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে পারি।আমিন।