বেলাল লাভলী বীনু

মানবতা বিবর্জিত চাকচিক্যময় সভ্যতার দাবীদার এশিয় মানবসমাজে সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত,বিপদাপন্ন এই রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়।
কোনও ধর্মীয় বা দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়,উদ্দেশ্য প্রনোদিত নয়,শুধুই একজন মানুষ হিসেবে অবশ্য অবশ্যই আমি সমব্যথী।
রোহিঙ্গাদের স্বাধীন রাজ্য ছিল,রাজা'ও ছিল।কালের বিবর্তনে, "দূর্বলের উপর সবলের অত্যাচার" নীতিতে চলা সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের মিয়ানমার তা দখল করে।

নিজ জন্মভূমিতে বিভিন্ন সময় বার্মা সরকারের নির্যাতনের কারণে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী।
বৃটিশদের করে যাওয়া ভুলের খেসারত আজও দিয়ে যাচ্ছে এ জনগোষ্ঠী।(মিয়ানমার স্বাধীনতার আগে বৃটিশদের করা জনগোষ্ঠী তালিকায় বাদ পরা)।

যুগের পর যুগ চলে আসা সামরিকতন্ত্র মানতেই পারেনি,রোহিঙ্গারাও এখন তাদের'ই স্ব-জাতি/আদিবাসী।
নেই কোনও স্বীকৃতি, ভোটাধিকার!?
নীরব দর্শকশ্রোতা ছিল তাবৎ বিশ্ব,মুসলিমজাতি।তিব্বতি দালাইলামার পক্ষে কথা বলার মানুষ থাকলেও,নেই রোহিঙ্গাদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে দাড়াবার মতো সাহসিকতাপূর্ণ কোনও বীরবল।
আজ কোথায় ওআইসি?কি লাভ হলো মুসলিম সম্প্রদায়ের ওআইসি গঠণ করে?

মিয়ানমার কর্তৃক দীর্ঘকাল রোহিঙ্গাদের উপর হত্যা নির্যাতন জ্বালাও পোড়াও দেখে নিশ্চুপ থেকে,আজ কি উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ আমাদের অনুরোধ করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবার?কি সেই অভিপ্রায়!?
জাতিসংঘ মিয়ানমারকে কেন একথা বলছেনা যে,তাদের অধিকার কেন কেড়ে নিচ্ছ?

শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনুস সাহেবের বাড়ি থেকে মিয়ানমার বেশিদূর নয়,তিনি চুপ কেন?তার তো মার্কিনমুলুকে বেশ সখ্যতা।দক্ষিন এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের মানষে হঠাৎ মিত্র বনে যাওয়া আমেরিকার প্রাঁণনাথ মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে,রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠাতে জোরালো ভুমিকা রাখতেই পারেন তিনি।গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ফেড়িওয়ালা মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয় ইউনিয়ন আজ নিশ্চুপ কেন!
কার আঙ্গুলি হেলনে শান্তিতে!নোবেলজয়ী সু চি চুপসে গেল!?রোহিঙ্গা ইস্যুতে এনএলডি'র অবস্থান কি?
রোহিঙ্গাদের হত্যা,জ্বালাও পোড়াও করে সাগরে ভাসিয়ে দিচ্ছে মিয়ানমার, অথচ অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল,হিউম্যান রাইটস ওয়াচ'র জোরালো ভুমিকা নেই কেন?দক্ষিন এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার ও চীনকে শায়েস্তা করতে ভারত মিয়ানমারের সাথে আমেরিকার গাঁটছড়া আমাদের জন্য সুখকর নয়।
হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতারা কোন গর্তে লুকিয়েছেন!তারা কি দেখছেন না তাদের বৌদ্ধরা কি করছে!?

বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ব্যাক্তি ও সংগঠন তৈরী করে রাখা হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য,এবং তাতে ইউরোপ ও আমেরিকার স্বার্থরক্ষা করার জন্য।

এখানে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার হচ্ছে মানবাধিকার,গণতন্ত্র,নারীর ক্ষমতায়ন,বাঁক স্বাধীনতা,মুক্তমনা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মিষ্টি বুলি।উন্নত দেশগুলো, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এসব বুলি নামক অস্ত্র দিয়ে অভ্যান্তরীণ গ্রুপিংকে কাজে লাগিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ও জিইয়ে রাখে।শেষে "থার্ড পার্টি" হিসেবে উদ্ভব হয়।
একথা সর্বজনবিদিত যে, জাতিসংঘ মার্কিন নিয়ন্ত্রিত। সুতরাং রাষ্ট্রসমিতির যে কোনও অনুরোধ মার্কিন সরকারের প্রচ্ছন্ন ইশারা বলে প্রতিভাত হয়।অদূর ভবিষ্যতে হয়তো তারা আমাদের মানবতা নিয়ে যেকোনও ঝামেলা পাকাবে!

আমরা আজও মোহাম্মদপুরের বিহারীদের ফেরত পাঠাতে পারিনি।বিহারীদের নিজ দেশ পাকিস্তান কথা দিয়েও ফেরত নেয়নি।আমরা মানবিক বলেই আজও তাদেরকে জোড়পূর্বক বিতারিত করিনি।
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় নাসাকা কর্তৃক পুশইন করা, অবৈধভাবে আনুমানিক প্রায় পাঁচ লক্ষ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।তারা লক্ষ্য করবার মতো, জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনে কোনও ভুমিকা রাখছে না।আমাদের ছোট দেশ,অধিক জনসংখ্যা।আয়ের উৎস সঙ্কুচিত।অতএব,বর্তমানে অবস্থিত রোহিঙ্গারা'ই যেখানে গোঁদের উপর বিষফোঁড়া।সেখানে উপর্যুপরি অমানবিক ও হীণ উদ্দশ্যে নাসাকা কর্তৃক জোরপূর্বক রোহিঙ্গা পুশইন চেষ্ঠা,গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বহন করে।
তবে আমরা এই চরম বৈরী অবস্থায়ও কিছুটা হলেও মানবিকতা দেখাতে চাই,এবং তা আমাদের সার্বভৌম নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই।ভাসমান রোহিঙ্গাদেরকে শুকনো খাবার,সুপেয় পানি,বস্ত্রাদি দিয়ে তাদের জন্মভূমিতে ফেরত পাঠাতে পারি।কোনও ভাবেই এর বেশি নয়।
যেসব মুসলিম ভাই রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিতে বলছেন,তাদের কাছে সবিনয়পূর্বক জিজ্ঞাসা থাকে যে,ভবিষ্যতে তারা কোনওদিন তাদের নিজ জন্মভূমিতে আদৌ ফিরতে পারবেন কি?
তাদেরকে গ্রহণ করবে মিয়ানমার?যেখানে বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গাদেরকেই ফেরত নিতে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও সাড়া দেয়নি নাসাকা!???
মনে রাখবেন................
এটি শুধুই মানবতা কিংবা ধর্মীয় আবেগ অনুভূতির বিষয় নয়,এটি সম্পুর্ণই সাজানো একটি পলিটিক্যাল গেম...........................!!!

নাগেশ্বরী
০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বাংলা।