পোস্টটি লিখেছেনঃ
আমার দেখা কুড়িগ্রামের একজন মহৎপ্রাণ মানুষ তাজুল ইসলাম তাজ ভাই।ভাই সারথি থেকে স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প করবো টাকা নাই,ভাই অসহায় মানুষদের জন্য কিছু শীতের কাপড় কিনবো,ভাই চরের একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু শিক্ষা উপকরণ কিনতে চাই, ভাই হাসপাতালে এক রোগীর জন্য রক্ত দরকার রক্ত ম্যানেজ হয়েছে রোগীর লোকের ব্যাগ কেনার টাকা নাই, ভাই আগামীকাল আপনার মাইক্রো গাড়িটি লাগবে আমরা কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক একটি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করতে নাগেশ্বরী যাবো, ভাই কিছু লিফলেট ছাপাবো টাকা দেন,ভাই সকাল থেকে একটি ভালো কাজ করলাম,ক্ষুধা লেগেছে,ঈষ্টি কুটুমে খাবো, এরকম হাজারো সমস্যার কথা শুধু মাত্র ফোন দিয়ে বলা হয় এই মানুষটিকে আর সকল কথার উত্তর একটি সেটা হলো এসে নিয়ে যাও অথবা থাকো আমি আসতেছি।
আজ সদর হাসপাতালে গেলাম,গিয়ে দ্বিতীয় তলায় ৫ নং ওয়াডে রোকেয়া নামের এক রোগীর সাথে দেখা হলো,ক্ষিন দেহী বয়স্ক মহিলা। কাঁথা গায়ের উপর দিয়ে রাখায় দেখা যাচ্ছিল না সেখানে মানুষ আছে কিনাই।এগিয়ে যাই বিছানার কাছে,আমার উপস্থিতি টের পেয়ে কাঁথার নিছ থেকে মাথা উঠালেন,কাই! কাই বাহে তোমরা?আমি আমার পরিচয় দিলাম। জিজ্ঞাসা করলাম এভাবে কাঁথার নিছে মাথা দিয়ে আছেন কেন? ডাক্তার তো দেখবে না।অনেকটা হতাশা ভরা কন্ঠে বললেন;না দেখে নাই। শুনে আমার আগ্রহ বেড়ে গেলো ঘটনা কি হাসপাতালে আছে অথচ ডাক্তার দেখানোর আগ্রহ কম(?) বললাম চাচি ঘটনা কি বলেন,ডাক্তার দেখাতে চাচ্ছেন না কেন?
কথা শুরু হলো-
আমার নাম রোকেয়া, আমার বাবার বাড়ি উলিপুর, বিয়ে হয়েছে মধ্য কুমরপুর এ, স্বামী রিকশা চালাত, একসময় সংসার ভালই চলতো এই রিকশা চালিয়ে দুই মেয়ে এক ছেলে,ছেলে বিয়ে করেছে গার্মেন্টস এ থাকে।বৌ শশুর বাড়িতে থাকে আলাদা খায়।মেয়ে দুইটার বিয়ে দিয়ে দিছং বাহে।
এলা তোমার চাচা আর আমি কুড়িগ্রাম ডায়াবেটিস হাসপাতালের পিছনে খাস জমিত একনা ধাপরী তুলি থাকি।
গ্রামের বাসা ছেড়ে শহরে কেন আসলেন? এমন প্রশ্নে তিনি যা বললেন শুনে চোখে পানি এসে গেলো, হামার পাও রিকশা খ্যান তো পুরান হয়া গেছে, ফির তোমার চাচাও বুড়া হয়া গেছে,আগের মতো রিকশাও চলে না,ফির ওমার শরীল এর মধ্যেও শক্তি বেশি নাই।তার মধ্যে ফির আসিল ব্যাটারির রিকশা।
তাও তোমার চাচা সকাল বেলা যখন স্কুল আর অফিসের ভিড় ক্যাইও রিকশা পায় না তখন করি যায় তখন ভাড়া পায়, তা সারা দিন মিলে কোন দিন ৬০ টাকা কোন দিন ৮০ টাকা পায়, তাহে দিয়ে কোন মতে চাউল কিনি, আলু কিনি ডাল লবণ কিনে খাই, যেইদিন করি ভাড়া হয় না,সেইদিন করি না খায়া থাকা লাগে, এই ভাবে না খায়া থাকতে থাকতে মোর ফির অসুখ ফানদিছে। ঠান্ডার দিনোত জাড়ের কাপড় গাওত না দিয়ে বলে শেলেশ ধরছে, তাহে তিন দিন ডাক্তার বলেছে যে রক্ত টেস্ট ও এক্স রে করতে হবে।তোমার চাচাক কলুং কি করবেন, ওমরা কয় তুই থাকিস এডাই কোন চিন্তা করিস না,মুই টাকা জোগার করি আনিম, কাল আসছিল বাহে তা দুই দিনে মাত্র ১০০ টাকা কামাই হইছে।আজ সকালে ডাক্তার আসি কয়, তোমরা তো আজ ও পরীক্ষা করান নাই,তোমাক আর কি দেহি, পরীক্ষা করেন তার পর দেখমো। ডাক্তার চলি যাওয়ার পর নার্স কয় আজ যদি পরীক্ষা করান তো থাকপেন না করান তো চলি যাবেন। এই জন্য বাবা মুই খেতা গাত দিয়ে শুতি আছং, তোমার চাচা যদি আজ টাকা নিয়ে আসে তা হলে পরীক্ষা করামো না হলে বাড়ি যামো। গরিব মানুষ কি আর করা যাবে কন তো বাহে?
চাচির শেষ প্রশ্নের কোন উত্তর আমার কাছে নাই, আমি শুধু বললাম চাচি আপনি একটু থাকেন আমি আসতেছি।বলে আমি হাসপাতাল ওয়াড থেকে বের হলাম কি করা যায় ভাবছি, এমন সময় মনে হলো আমাদের গৌরি সেন তাজুল ভাইয়ের কথা। ফোন দিলাম, কিন্তু লজ্জায় বলতে পারলাম না যে ভাই টাকা লাগবে। কারণ আগামী ২১ শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতার জন্য তার কাছে বাজেট বাবদ ৫০০ টাকা ধরা হয়েছে যা আমাকে ১৫ তারিখের মধ্যে নিতে হবে।তাই শুধু বললাম ভাই একটা এস এম এস দিচ্ছি দেখেন, সেই এস এম এস এ আমি ভাইকে শুধু জানালাম ভাই এক মহিলার জন্য টাকা দরকার সদর হাসপাতালে। ভাই রিপ্লাই দিলো থাকো আমি ৩০ মিনিটের মধ্যে আসতেছি।
কিছুক্ষণ পর ভাই হাসপাতালে আসলেন।তার পর গেলাম সেই মহিলার কাছে, ভাই অসুস্থ রোকেয়া চাচির হাতে ধরিয়ে দিলেন টাকা এবং পরীক্ষা করার থেকে বেশি টাকা।
ভাইয়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।
কে এই তাজ ভাই?
একজন সুন্দর মনের মানুষ তাজ ভাই।
তিনি গণ কমিটির জেলা সভাপতি
তার নিজেস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স বাজার জামে মসজিদের সামনে। তিনি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান 'সারথি"র উপদেষ্ঠা।
পুনশ্চঃ ছবি এবং লেখা লেখকের fb টাইমলাইন থেকে সংগ্রহকৃত।
![]() |
| তাজুল ইসলাম তাজ |
আমার দেখা কুড়িগ্রামের একজন মহৎপ্রাণ মানুষ তাজুল ইসলাম তাজ ভাই।ভাই সারথি থেকে স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প করবো টাকা নাই,ভাই অসহায় মানুষদের জন্য কিছু শীতের কাপড় কিনবো,ভাই চরের একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু শিক্ষা উপকরণ কিনতে চাই, ভাই হাসপাতালে এক রোগীর জন্য রক্ত দরকার রক্ত ম্যানেজ হয়েছে রোগীর লোকের ব্যাগ কেনার টাকা নাই, ভাই আগামীকাল আপনার মাইক্রো গাড়িটি লাগবে আমরা কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক একটি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করতে নাগেশ্বরী যাবো, ভাই কিছু লিফলেট ছাপাবো টাকা দেন,ভাই সকাল থেকে একটি ভালো কাজ করলাম,ক্ষুধা লেগেছে,ঈষ্টি কুটুমে খাবো, এরকম হাজারো সমস্যার কথা শুধু মাত্র ফোন দিয়ে বলা হয় এই মানুষটিকে আর সকল কথার উত্তর একটি সেটা হলো এসে নিয়ে যাও অথবা থাকো আমি আসতেছি।
আজ সদর হাসপাতালে গেলাম,গিয়ে দ্বিতীয় তলায় ৫ নং ওয়াডে রোকেয়া নামের এক রোগীর সাথে দেখা হলো,ক্ষিন দেহী বয়স্ক মহিলা। কাঁথা গায়ের উপর দিয়ে রাখায় দেখা যাচ্ছিল না সেখানে মানুষ আছে কিনাই।এগিয়ে যাই বিছানার কাছে,আমার উপস্থিতি টের পেয়ে কাঁথার নিছ থেকে মাথা উঠালেন,কাই! কাই বাহে তোমরা?আমি আমার পরিচয় দিলাম। জিজ্ঞাসা করলাম এভাবে কাঁথার নিছে মাথা দিয়ে আছেন কেন? ডাক্তার তো দেখবে না।অনেকটা হতাশা ভরা কন্ঠে বললেন;না দেখে নাই। শুনে আমার আগ্রহ বেড়ে গেলো ঘটনা কি হাসপাতালে আছে অথচ ডাক্তার দেখানোর আগ্রহ কম(?) বললাম চাচি ঘটনা কি বলেন,ডাক্তার দেখাতে চাচ্ছেন না কেন?
কথা শুরু হলো-
আমার নাম রোকেয়া, আমার বাবার বাড়ি উলিপুর, বিয়ে হয়েছে মধ্য কুমরপুর এ, স্বামী রিকশা চালাত, একসময় সংসার ভালই চলতো এই রিকশা চালিয়ে দুই মেয়ে এক ছেলে,ছেলে বিয়ে করেছে গার্মেন্টস এ থাকে।বৌ শশুর বাড়িতে থাকে আলাদা খায়।মেয়ে দুইটার বিয়ে দিয়ে দিছং বাহে।
এলা তোমার চাচা আর আমি কুড়িগ্রাম ডায়াবেটিস হাসপাতালের পিছনে খাস জমিত একনা ধাপরী তুলি থাকি।
গ্রামের বাসা ছেড়ে শহরে কেন আসলেন? এমন প্রশ্নে তিনি যা বললেন শুনে চোখে পানি এসে গেলো, হামার পাও রিকশা খ্যান তো পুরান হয়া গেছে, ফির তোমার চাচাও বুড়া হয়া গেছে,আগের মতো রিকশাও চলে না,ফির ওমার শরীল এর মধ্যেও শক্তি বেশি নাই।তার মধ্যে ফির আসিল ব্যাটারির রিকশা।
গ্রামের মানুষ আর পাও রিকশাত চড়ে না।তার জন্য শহরত আসলং, কিন্তু বাহে শহরত তো আরো বেশি ব্যাটারি রিকশা।
তাও তোমার চাচা সকাল বেলা যখন স্কুল আর অফিসের ভিড় ক্যাইও রিকশা পায় না তখন করি যায় তখন ভাড়া পায়, তা সারা দিন মিলে কোন দিন ৬০ টাকা কোন দিন ৮০ টাকা পায়, তাহে দিয়ে কোন মতে চাউল কিনি, আলু কিনি ডাল লবণ কিনে খাই, যেইদিন করি ভাড়া হয় না,সেইদিন করি না খায়া থাকা লাগে, এই ভাবে না খায়া থাকতে থাকতে মোর ফির অসুখ ফানদিছে। ঠান্ডার দিনোত জাড়ের কাপড় গাওত না দিয়ে বলে শেলেশ ধরছে, তাহে তিন দিন ডাক্তার বলেছে যে রক্ত টেস্ট ও এক্স রে করতে হবে।তোমার চাচাক কলুং কি করবেন, ওমরা কয় তুই থাকিস এডাই কোন চিন্তা করিস না,মুই টাকা জোগার করি আনিম, কাল আসছিল বাহে তা দুই দিনে মাত্র ১০০ টাকা কামাই হইছে।আজ সকালে ডাক্তার আসি কয়, তোমরা তো আজ ও পরীক্ষা করান নাই,তোমাক আর কি দেহি, পরীক্ষা করেন তার পর দেখমো। ডাক্তার চলি যাওয়ার পর নার্স কয় আজ যদি পরীক্ষা করান তো থাকপেন না করান তো চলি যাবেন। এই জন্য বাবা মুই খেতা গাত দিয়ে শুতি আছং, তোমার চাচা যদি আজ টাকা নিয়ে আসে তা হলে পরীক্ষা করামো না হলে বাড়ি যামো। গরিব মানুষ কি আর করা যাবে কন তো বাহে?
চাচির শেষ প্রশ্নের কোন উত্তর আমার কাছে নাই, আমি শুধু বললাম চাচি আপনি একটু থাকেন আমি আসতেছি।বলে আমি হাসপাতাল ওয়াড থেকে বের হলাম কি করা যায় ভাবছি, এমন সময় মনে হলো আমাদের গৌরি সেন তাজুল ভাইয়ের কথা। ফোন দিলাম, কিন্তু লজ্জায় বলতে পারলাম না যে ভাই টাকা লাগবে। কারণ আগামী ২১ শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতার জন্য তার কাছে বাজেট বাবদ ৫০০ টাকা ধরা হয়েছে যা আমাকে ১৫ তারিখের মধ্যে নিতে হবে।তাই শুধু বললাম ভাই একটা এস এম এস দিচ্ছি দেখেন, সেই এস এম এস এ আমি ভাইকে শুধু জানালাম ভাই এক মহিলার জন্য টাকা দরকার সদর হাসপাতালে। ভাই রিপ্লাই দিলো থাকো আমি ৩০ মিনিটের মধ্যে আসতেছি।
কিছুক্ষণ পর ভাই হাসপাতালে আসলেন।তার পর গেলাম সেই মহিলার কাছে, ভাই অসুস্থ রোকেয়া চাচির হাতে ধরিয়ে দিলেন টাকা এবং পরীক্ষা করার থেকে বেশি টাকা।
ভাইয়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।
কে এই তাজ ভাই?
একজন সুন্দর মনের মানুষ তাজ ভাই।
তিনি গণ কমিটির জেলা সভাপতি
তার নিজেস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স বাজার জামে মসজিদের সামনে। তিনি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান 'সারথি"র উপদেষ্ঠা।
পুনশ্চঃ ছবি এবং লেখা লেখকের fb টাইমলাইন থেকে সংগ্রহকৃত।

0 Comments
Post a Comment