• বেলাল বীনু

দেশের সব চোর বাটপাড় গুন্ডা বদমাশ ছিনতাইকারী সন্ত্রাসীরা মিলে যদি একটি সংগঠন গড়ে,তবে কেমন হবে!
এটাও তো তাদের সংগঠন করার গণতান্ত্রীক অধিকার!?
সাংগঠনিক ব্যানার না থাকলেও,ডাকাত সঙ্ঘের অস্তিত্ব অনুমিত হয়।বিভিন্ন সভা সমিতিতে,গোল কাঠের গোলাকার ঠকঠকা টেবিল বৈঠকে!
নেতার পাশে নিজেকে মেজে ঘষে গা ঘেষে পাতি নেতা হয়ে ছাতি ধরে নেতাকে ঘিরে থাকে এরা।খবরের কাগজে, কি যাদুর বাক্সেও এদের কু-প্রবৃত্তির ছবি লাল বৃত্তে অঙ্কিত দেখে চমকিত হই!
রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি করে পুঁজিবাদী পুঁজিপতি শ্রেণী শোষকের ভুমিকায় অবতীর্ণ।
নেতার ছোট বড় ভুলে,দলীয় কোন্দলে,নানা ফাঁকফোকরে আঁটা ফন্দিফিকিরে ঢুকে পরছে রাজনীতিতে।

নিজের চামড়া বাঁচাতে ভিড়ছে রাজনীতিতে।সুপ্রিম সুদৃষ্টি পেতে দলে ডোনেশন দিয়ে কিনতে চাইছে নমিনেশন!
দেশদরদী নেতারাও হয়ে পরছে জিম্মি!

অর্থের দাপট/চাটুকারিতা/স্তুতিকারীদের কাছে মার খাচ্ছে জনসেবায় ব্রত রাজনীতি।
যে রাজনীতিবিদগণ সমাজ ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করেন,সেই রাজনীতিবিদদেরকে'ই নিয়ন্ত্রণ করছে অদৃশ্য ডাকাত সঙ্ঘ!

ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি,মানি লন্ডারিং,মাদক আমদানি,নারী ও শিশু পাচার,মজুদদারি,জঙ্গিবাদে অর্থের সংস্থান,চিকিৎসায় বাণিজ্য,সংবাদ সন্ত্রাস,সরকারি প্রকল্পের অর্থ লোপাট,এসব তো আর একক ভাবে এককালীন করা সম্ভব নয়!এককাট্টা হওয়া ছাড়া।এরাই সেই ছদ্মবেশী ভদ্রলোক,ডাকাত সঙ্ঘের সদস্য।সমাজের ভেতর গড়ে তুলেছে আরেক সমাজ।

এর সব কিছুই হচ্ছে সমাজের সব ক্ষেত্রে,সব সংগঠনে রাজনীতি ঢুকিয়ে দেয়ার কু'ফল।পুঁজিবাদী পুঁজিপতি শ্রেণী বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে শোষণ করে চলেছে ভোক্তা বা গ্রাহক শ্রেণীকে।

সরকার সরকারীদল বিরোধীদল যেকোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণে এদের সহযোগিতা ও বিরোধীতা বিবেচনায় নিয়ে থাকেন।
ক্ষমতায় যাওয়ার,ক্ষমতায় টিকে থাকার অন্যতম নিয়ামক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এইসব তথাকথিত ডাকাত সঙ্ঘ।
দেশের দুটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য ও বিগত জাতীয় কাউন্সিলে পদ পদবী'র ছড়াছড়ি,কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ,দলীয় কোন্দল দেখে অনুমিত হয় যে,এদের বৃহদাংশই প্রকৃত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন,সেবার মানষে দেশকে কিছু দিতে নয় পেতে এসেছেন।
ঠিক এভাবেই জনসম্পৃক্ত ত্যাগী আদর্শবাদী তৃণমূল রাজনীতিবিদদের হাত থেকে ক্রমশ ফসকে যাচ্ছে ক্ষমতা ও রাজনীতির ভারসাম্যের নাটাই।
বাদরের গলায় যেমন মুক্তোর মালা শোভনীয় নয়,শেঁয়ালের কাছে যেমন মুরগী বন্ধক রাখা নিরাপদ নয়,তেমনি অরাজনৈতিক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা প্রদান, এবং রাজনৈতিক ছাঁয়াতলে আশ্রয় প্রশ্রয়দান কার্য্যতঃ শেঁয়ালের হাতে মুরগী আধী দেওয়ার মতোই............!

নিজ নিজ দলকে বর্ধিত করতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অজস্র সংগঠন গড়ে,সর্বস্তরে ও সব সংগঠনে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে রাজনীতি ঢুকিয়ে দিলে,ক্ষমতায়নের বাইরে থাকা তৃণমূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী,হঠাৎ গজিয়ে ওঠা এসব "অমুক তমুক সংগঠনের চ্যালা"র হাতে শোষিত নির্যাতিত সর্বোপরি সামাজিক বৈষম্যের শিকার হতে বাধ্য।

দেশে ভালো মানুষের চেয়ে খারাপ দুশ্চরিত্রের সংখ্যা মোটেও বেশি নয়!
বৈধ অস্ত্রের চেয়ে অবৈধ অস্ত্রের সংখ্যাও বেশী নয়!
আইনের শক্তির চেয়ে ডাকাত সঙ্ঘের শক্তি মোটেও বেশী নয়।

আদর্শবাদী ত্যাগী রাজনীতিবিদদের হাতে  রাজনীতির পূর্ণনিয়ন্ত্রণভার অর্পণ অত্যাবশ্যক।
কোনও সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি-গোষ্ঠির গা বাঁচাতে,পদ পদবীর লোভে রাজনীতিতে প্রবেশাধিকার গ্রহণযোগ্য নয়।