আগে পত্রিকায় কলাম লিখলেই সংবিধানের উদ্ধৃতি রাখতামই। ভাবতাম, সংবিধানে অধিকার থাকার পরও আমাদের অজ্ঞতার কারণে শাসকশ্রেণি অধিকার দিচ্ছে না। হাইকোর্টে মামলা করলেই অধিকারগুলো আদায় হয়ে যাবে। আমরা সংবিধান না পড়ে হুদাই আন্দোলনের নামে দাপাদাপি করি।
আরও ভাবতামঃ ৭২ এর সংবিধান তো বেশ ভালই। পরবর্তী সামরিক শাসকরা এসেই যেটুকু গণ্ডগোল বাঁধিয়েছে মাত্র।
সংবিধানটা বেশ অনেকবার পড়ায় মনে মনে এক ধরনের অহংকার ছিল।
কিন্তু প্রত্যেকটা পাঠের যে এক ধরনের ব্যাকরণ আছে, এটা জানা ছিল না।
কিন্তু গত বছর মানে ১৪ সালে ঢাকায় আমাদের নেতা কমরেড হেলাল উদ্দীন একটি বৈঠকে আমন্ত্রণ জানালেন। সেখানেই হাসনাত কাইয়ুম ভাইয়ের সাথে পরিচয়। ঝাঁকড়া চুলের এক সরল মানুষ । তারপর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উনার বক্তৃতা শোনা হলো, আর কাঁচের মত ঝুরঝুর করে ভেঙে গেল আমার আত্মবিশ্বাস। আর আমার চোখের সামনে সংবিধান সম্পর্কে পুরো ব্যাপার দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে গেল। আর আমি ঋণে বাঁধা পড়ে গেলুম। মনে মনে উনাকে শিক্ষকের আসনে বসালাম।
তাঁর সম্পাদনায় রচিত 'বাংলাদেশের সংবিধান পর্যালোচনা' পুস্তিকাটি বাংলাদেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞরই দৃষ্টি পাল্টে দিয়েছে।
এই দেশে যেদিন গণতান্ত্রিক সংবিধান কায়েম হবে, সেদিন তাঁকে মাথায় করে রাখা হবে। কিন্তু সেদিন হয়তো তিনি থাকবেন, হয়তো থাকবেন না।
আজ তাঁর জন্মদিন। কাইয়ুম ভাই দীর্ঘজীবী হোন।

0 Comments
Post a Comment